রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

চাঁদা না পেয়ে ২ শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় ভোলাগামী একটি পরিবারের ১১ সদস্যকে জিম্মি করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাতিজা আল আমিন ছৈয়াল (২৫) ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় দুই শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়। নৌ পুলিশ ওই পরিবারকে উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজু চৌধুরীর হাটের অদূরে আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়েছে।

অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়াল ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়ালের ভাতিজা। তার বাবার নাম আবু ছৈয়াল। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন একই এলাকার খোকন বেপারী (২৮) ও সাইজ উদ্দিনসহ ছয়জন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই পরিবারের সদস্যরা ভোলা সদর উপজেলার কাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকায় বাস করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকার মেরুল বাড্ডা থেকে পরিবারের ১১ সদস্য ফেরিতে করে ভোলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে লক্ষ্মীপুরের মৌজু চৌধুরীর হাট এলাকায় আসেন। ঘাটে পৌঁছানোর আগেই ফেরি চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা। এ সময় আল আমিন ছৈয়ালসহ সাত-আটজন তাদের ট্রলারে তুলে দেওয়ার কথা বলে ঘাটের অদূরে বালুর চর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় নিয়ে একটি ট্রলারে আটকে রাখে। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করে আল আমিন ও তার সঙ্গীরা। বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিলেও রক্ষা পায়নি ওই পরিবার। দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় তিন বছরের শিশু লামিয়া ও ১০ বছরের শিশু নুর আলমকে মেঘনা নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয় আল আমিন ছৈয়াল। স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি থাকা লোকদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহনাজ বলেন, ‘২০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে তারা আমার মেয়ে ও ভাইকে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়ালের বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চর রমনী মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, ‘আমার ভাতিজা আল আমিন এলাকায় নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করছে তার বিরুদ্ধে।’

এ ব্যাপারে মজু চৌধুরীর হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) অচিন্ত কুমার দে বলেন, ‘জিম্মি অবস্থা থেকে এক পরিবারের ১১ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের ভোলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com